দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর অনুমান প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে অসাধু সাদৃশ্যানুমান ও সাধু সাদৃশ্যানুমান লক্ষ করা যায়। নিচে অসাধু সাদৃশ্যানুমান ও সাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে তুলনামূলক সম্পর্ক আলোচনা করা হলো-
যে সাদৃশ্যানুমানে আশ্রয়বাক্যের অমৌলিক, গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। এ অনুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো বাহ্যিক, গুরুত্বহীন ও অজ্ঞাত হওয়ায় অনুপপত্তি বা যুক্তিদোষ ঘটে। এ কারণে এটি একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, যে সাদৃশ্যানুমানে আশ্রয়বাক্যের মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়ের সাদৃশ্য বা মিল অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। অর্থাৎ, এ সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে কার্যকারণ নীতির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত সাদৃশ্যানুমানে তাল গাছ ও নারিকেল গাছের মধ্যে 'লম্বা', 'পাতা সবুজ' ও 'ডালপালা বিহীন' নামক অমৌলিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে একই ফল হওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমান। কেননা গাছের লম্বা, পাতা সবুজ ও ডালপালা বিহীন গুণের সাথে ফল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু দৃশ্যকল্প-৩ এ উল্লেখিত সাদৃশ্যানুমানে পরিমলা ও মেলোডি উভয়েই মাঝে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে পরিমলা যেহেতু মেধাবী, তাই মেলোডিও মেধাবী হবে। এ কারণে এটি সাধু সাদৃশ্যানুমানের একটি দৃষ্টান্ত।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অসাধু সাদৃশ্যানুমান প্রক্রিয়া ভ্রান্ত হলেও সাধু সাদৃশ্যানুমান নতুন তথ্য ও সত্য আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।