দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-১ এ প্রতিফলিত আরোহ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ। বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রকৃতি এক নয় ভিন্ন। অর্থাৎ এদের মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান।
প্রকৃত আরোহের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রকরণ হলো বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ। উভয় আরোহ অনুমানে আরোহমূলক লম্ফের মাধ্যমে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাশাপাশি উভয় অনুমান প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর পরেও উভয় আরোহে বিভিন্ন বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন- বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে তেমন গুরুত্বই দেওয়া হয় না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার (যেমন— চিপস, চানাচুর, চকলেট, আচার, সস, কোমল পানীয়) ক্যান্সারের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। এখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিসহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-১ এ দেখতে পাই, বার্ধ্যক্যে উপনীত ব্যক্তি কখনোই শিশু বয়সে ফিরে আসতে পারে না। উক্তিটিতে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর ভিত্তি করে অনুকূল অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই দৃশ্যকল্প-১ অবৈজ্ঞানিক আরোহের একটি দৃষ্টান্ত।
আলোচনা শেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ পরিলক্ষিত বৈজ্ঞানিক আরোহ নিশ্চিত সিদ্ধান্ত স্থাপন করে এবং দৃশ্যকল্প-১ এর অবৈজ্ঞানিক আরোহ সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। তাই উভয়ের প্রকৃতি একটি অন্যটি থেকে পৃথক।