উদ্দীপকে অনুমানটি তথা সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে নির্ণয় করা যায়।
সাদৃশ্যানুমানে কোনোরূপ কার্য-কারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করে নিছক অসম্পূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়। তাই এর সিদ্ধান্ত সব সময়ই সম্ভাব্য। কিন্তু সম্ভাব্যতা একটি মাত্রার ব্যাপার। সম্ভাব্যতা সাদৃশ্যের মৌলিকত্ব ও গুরুত্বের ভিত্তিতে খুব বেশিও হতে পারে, আবার কোন ক্ষেত্রে খুব কমও হতে পারে। সুতরাং সাদৃশ্যানুমানের মূল্য সব ক্ষেত্রে সমান নয়। সাদৃশ্যের বিষয়গুলোর সংখ্যা যত বেশি হবে, অনুমানের সম্ভাবনার মাত্রা তত বেশি হবে। আবার, সাদৃশ্যের বিষয়গুলোর গুরুত্ব যত বেশি হবে, অনুমানের সম্ভাবনার মাত্রা তত বেশি হবে। একইভাবে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো যত বেশি প্রাসঙ্গিক হবে, অনুমানের সম্ভাবনার মাত্রা তত বেশি হবে। আর বৈসাদৃশ্যের বিষয়গুলোর সংখ্যা ও গুরুত্ব যত বেশি হবে অনুমানের সম্ভাবনার মাত্রা তত কম হবে। তাই জ্ঞাত বিষয়ের তুলনায় অজ্ঞাত বিষয়ের সংখ্যা বেশি হলে সাদৃশ্যানুমানের সম্ভাবনার মাত্রা কম হয়। এই সম্ভাবনার মাত্রার ভিত্তিতে সাদৃশ্যানুমানকে দুইভাগে ভাগ করা যায় । যথা— সাধু সাদৃশ্যানুমান ও অসাধু সাদৃশ্যানুমান।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, মানুষের মত তিমি বাচ্চা প্রসব করে। মানুষ গান গায়। অতএব, তিমিও গান গায়। এখানে 'মানুষ' ও 'তিমির মধ্যে কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য দেখে নতুন একটি গুণ 'গান গাওয়া'কে অনুমান করা হয়েছে। কিন্তু এখানে অমৌলিক ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কেননা, বাচ্চাপ্রসব করার সাথে গান গাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানের একটি দৃষ্টান্ত।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সাদৃশ্যানুমানের মূল্য ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অমৌলিক ও গুরুত্বহীন সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা অসাধু সাদৃশ্যানুমানে পরিণত হয়।