দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২-এর মাধ্যমে যথাক্রমে অসাধু ও সাধু সাদৃশ্যানুমানের প্রকাশ ঘটেছে। আর এই দুই প্রকার সাদৃশ্যানুমানের -মধ্যে সাধু সাদৃশ্যানুমান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দৃশ্যকল্প-১-এ রাশেদ ও তার ভাইয়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেগুলো অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক। তাই দৃশ্যকল্প-১ এর মাধ্যমে অসাধু সাদৃশ্যানুমান নির্দেশিত হয়েছে। কেননা যে সাদৃশ্যানুমানে অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্টা করা হয়ে থাকে তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। এই প্রকার সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের 'চেয়ে বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের সংজ্ঞা বেশি থাকে। এখানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো স্থান নেই। এই প্রকার সাদৃশ্যানুমানের সিন্ধান্ত উদ্ভট। তাই এটি অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট থাকে।
পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এ মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে বিভিন্ন মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কেননা, যে সাদৃশ্যানুমানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সাদৃশ্য বিবেচনা করে সিন্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না। তবে এখানে কার্যকারণ সম্পর্কের ইঙ্গিত থাকে। আর সাধু সাদৃশ্যানুমান একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পথনির্দেশ করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, অসাধু ও সাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে সাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা অসাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে নেই। তাই বলা যায়, সাধু সাদৃশ্যানুমান অধিক গ্রহণযোগ্য।