তথ্য-১ হলো সাধু সাদৃশ্যানুমান ও তথ্য-২ হলো অসাধু সাদৃশ্যানুমান। এদের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। প্রথমত, যে সাদৃশ্যানুমানে মৌলিক, পুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয় বিষয়ে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। যেমন তথ্য- ১ এ মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে অঙ্গ, স্নায়ুতন্ত্র ও ইন্দ্রিয় বিষয়ের সাদৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যক। অন্যদিকে, যে সাদৃশ্যানুমানে বাহ্যিক, গুরুত্বহীন ও অনাবশ্যক বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে অনুমান করা হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। যেমন তথ্য-২ এ পাখি ও উড়োজাহাজের মধ্যে আকাশে উড়ার সাদৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা গুরুত্বহীন ও অনাবশ্যক। দ্বিতীয়ত, সাধু সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের সাথে সিদ্ধান্তের একটা কার্যকারণ সম্পর্ক থাকার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু অসাধু সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো অপ্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বহীন হওয়ায় তাদের সাথে সিদ্ধান্তের কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা থাকে না। তৃতীয়ত, সাধু সাদৃশ্যানুমানে বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের তুলনায় সাদৃশ্যের বিষয়গুলো বেশি থাকে। ফলে এর মূল্য অনেকাংশে বেড়ে যায়। বিষ্ণু অসাধু সাদৃশ্যামুমানে সাদৃশ্যের তুলনায় বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের সংখ্যা বেশি থাকে। ফলে এর মূল্য অনেকাংশে কমে যায়। চতুর্থত, সাধু সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত থাকে বলে এর সিদ্ধান্তের পক্ষে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু অসাধু সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো ইঙ্গিত থাকে না বলে এর সিদ্ধান্তের পক্ষে সত্য হওয়ার চেয়ে মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পঞ্চমত, সাধু সাদৃশ্যানুমান প্রকৃতির নিয়মকানুন সম্পর্কিত জ্ঞান ও সুসংগত চিন্তাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ। ফলে এরূপ অনুমান জ্ঞানচর্চার পক্ষে সহায়ক। অপরদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমান ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক কুসংস্কার ও কাল্পনিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল। ফলে এরূপ অনুমান জ্ঞানচর্চার পক্ষে অন্তরায়।