উদ্দীপকে দৃষ্টান্ত-ক এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃষ্টান্ত-খ এর মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক আরোহের পরিচয় পাওয়া যায়। এ দুই প্রকার আরোহ বিভিন্ন দিক দিয়ে সম্পর্কিত। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে কয়েকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্তের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাহায্যে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। আর কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় কারনা করে শুধু একানুবর্তী ও অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম উভয় নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে ঘটনাবলি বিশ্লেষণের সময় কার্যকারণ নিয়মের ওপর নিভর করা হয় এবং সিদ্ধান্ত স্থাপনের সময় প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয় না।
বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি জটিল প্রক্রিয়া। এতে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং অপনয়ন সূত্রের সাহায্যে অপ্রাসঙ্গিক ঘটনাবলি বাদ দিয়ে প্রকৃত ঘটনার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়। এতে অনেকগুলো ধাপ যেমন- পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, অপনয়ন, প্রকল্প প্রণয়ন, সামান্যীকরণ ইত্যাদি অতিক্রম করতে হয়। অপরদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ সহজ-সরল প্রক্রিয়া। কোনো বিষয়ে অবাধ ও ব্যতিক্রমহীন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
বৈজ্ঞানিক আরোহে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্তই পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে শুধু সদর্থক দৃষ্টান্তগুলো আমরা বিবেচনায় নিই, নঞর্থক দৃষ্টান্ত আছে কি না সেটি ভেবে দেখি না।
উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।