উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ ও ২ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে প্রকৃত আরোহের দৃষ্টিতে বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য নির্ণয় করা হলো-দৃশ্যকল্প-১ এ নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে সদর্থক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়।
বৈজ্ঞানিক আরোহে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত: গ্রহণ করা হয়। সেক্ষেত্রে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাই দৃশ্যকল্প-১ এর অনুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে, সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নঞর্থক-দৃষ্টান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই। অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না। যেমন- উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, 'বাঁহাতি ব্যক্তিদের আয়ু সাধারণত কম হয়।' যা বাস্তবতা বিবর্জিত।
আলোচনা শেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগ হলেও এদের মধ্যে পদ্ধতিগত ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিদ্যমান। এ কারণে বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।