দৃশ্যকল্প-১ দ্বারা বৈজ্ঞানিক আরোহকে ও দৃশ্যকল্প-২ দ্বারা অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করেছে। সংগত কারণে বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে তেমন গুরুত্বই দেওয়া হয় না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখতে পাই, বাংলা শিক্ষক মানবিক বিভাগের শিমুলের, তমালের ও মলয়ের হাতের লেখা সুন্দর লক্ষ করে সিদ্ধান্ত নিলেন মানবিক বিভাগের সকল ছাত্রের হাতের লেখা সুন্দর। এখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিসহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ দেখতে পাই, বাংলা শিক্ষক বললেন, আমি এ যাবত মানবিক বিভাগের যত ছাত্র দেখেছি তাদের সবার হাতের লেখা সুন্দর দেখেছি। সুতরাং, মানবিক বিভাগের সকল ছাত্রের হাতের লেখা হয় সুন্দর। শিক্ষকের এ বক্তব্যটিতে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর ভিত্তি করে অনুকূল অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই দৃশ্যকল্প-২ অবৈজ্ঞানিক আরোহের একটি দৃষ্টান্ত।