'উদ্দীপকে উল্লেখিত ধারণাটি এক ধরনের অনুপপত্তি নির্দেশ করে'-উক্তিটি যথার্থ। কারণ উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা অসাধু সাদৃশ্যানুমানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।যে সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের মধ্যে অমৌলিক, গুরুত্বহীন, অপ্রাসঙ্গিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। যেমন-মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্ম, খাদ্যগ্রহণ, বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার হয়। মানুষ ফুটবল খেলতে পারে। অতএব, অন্যান্য প্রাণীও ফুটবল খেলতে পারে। বস্তুত এ ধরনের অনুমানের সিদ্ধান্ত হলো অপ্রাসঙ্গিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যমূলক। এখানে কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের প্রভাব নেই বরং আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের সংখ্যা বেশি। এ ধরনের অনুমান অবৈধ। পাশাপাশি এ সাদৃশ্যানুমান সর্বদা অসত্য ও ভ্রান্ত পথে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ এ সাদৃশ্যানুমানের সাদৃশ্যের বিষয়গুলো নিতান্তই অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক।উদ্দীপকের উল্লেখিত দৃষ্টান্তে অসাধু সাদৃশ্যানুমানের অনুপপত্তি পরিলক্ষিত হয়। কারণ এখানে আলাল ও দুলালের মধ্যে কিছু বাহ্যিক ও অযৌক্তিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে, আলাল বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছে, অতএব দুলালও আগামী বছর বিকেএসপিতে ভর্তি হবে। বস্তুত এ ধরনের সিদ্ধান্তের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। এজন্য যুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ।পরিশেষে বলা যায়, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে কেবল বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মতো ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং আমরা যথার্থভাবেই বলতে পারি, উদ্দীপকে উল্লেখিত ধারণাটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানের অনুপপত্তিকে নির্দেশ করে।