এ যুক্তি-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং যুক্তি-২ এ অবৈজ্ঞানিক আরোহের পরিচয় পাওয়া যায়। এ বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে যে সম্পর্ক তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। এ উভয় প্রকার আরোহই সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ এদের সিদ্ধান্তটি হয় সার্বিক বাক্য এবং বাক্যের বিধেয় উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে।
২. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহে আরোহাত্মক উল্লম্ফন বা আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান থাকে। এ আরোহাত্মক উল্লম্ফনের মাধ্যমে উভয় প্রকার আরোহে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে গমন করা হয়। অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সমগ্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৩. অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীল। আবার বৈজ্ঞানিক আরোহও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর ভিত্তি করেই উভয় প্রকার আরোহে কিছু থেকে সকলে গমন করা সম্ভব হয়।
৪. বৈজ্ঞানিক আরোহে ঘটনার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অবৈজ্ঞানিক আরোহেও ঘটনার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৫. অবৈজ্ঞানিক আরোহ বৈজ্ঞানিক আরোহের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ অবৈজ্ঞানিক আরোহই আমাদের বৈজ্ঞানিক আরোহের দিকে ঠেলে দেয়। অবৈজ্ঞানিক আরোহ বৈজ্ঞানিক আরোহে পৌছাবার সোপান হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
তাই বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। উভয় প্রকার আরোহই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে এবং উভয়ের মধ্যে আরোহাত্মক উল্লম্ফন বা আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান থাকে। তাই বলা যায়, এরা উভয়ে বিভিন্ন দিক দিয়ে সম্পর্কিত।