উদ্দীপকে 'ক'-এর উল্লিখিত বিষয়টির মাধ্যমে প্রকৃত আরোহকে নির্দেশ করে। কেননা একমাত্র প্রকৃত আরোহে আরোহাত্মক উল্লম্ফনের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। প্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ বিশ্লেষণ নিচে করা হলো-
যে আরোহ অনুমানে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য আরোহাত্মক উল্লম্ফন উপস্থিত থাকে তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। প্রকৃত আরোহ জানা থেকে অজানায়, জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে ও বিশেষ থেকে সার্বিকে উত্তরণের একটি প্রক্রিয়া। তাই এ আরোহ অনুমানে আরোহাত্মক উল্লম্ফন বিদ্যমান থাকে। উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে আরোহাত্মক উল্লম্ফনের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। ফলে উদ্দীপকের 'ক' স্থানে আরোহের প্রকারভেদ প্রকৃত আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। প্রকৃত আরোহ তিন প্রকার। যথা-
১. বৈজ্ঞানিক আরোহ: যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ বিশেষ কয়েকটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন- রহিম, করিম, কামাল, জামাল ইত্যাদি মানুষের মৃত্যুকে পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সকল মানুষ মরণশীল।
২. অবৈজ্ঞানিক আরোহ কোনো প্রকার কার্যকারণ সম্পর্কের তোয়াক্কা না করে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর ভিত্তি করে অবাধ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন-কতিপয় দৃষ্টান্তে সাদা ফুলের মাঝে গন্ধের অনুপস্থিতি লক্ষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় "সব সাদা ফুল গন্ধহীন।"
৩. সাদৃশ্যানুমান: দুটি বস্তুর মাঝে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে অনুমান করা যায়, তাদের একটি কোনো বিশেষ গুণের অধিকারী হলে অপরটিও ওই বিশেষ গুণের অধিকারী হবে, এরূপ অনুমানকে সাদৃশ্যানুমান বলে। যেমন- মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে জন্ম-বৃদ্ধি, বংশবৃদ্ধি এসব বৈশিষ্ট্যে সাদৃশ্য রয়েছে-মানুষের বুদ্ধি আছে। অতএব, গাছপালারও বুদ্ধি আছে।