উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ নির্দেশিত আরোহটি বৈজ্ঞানিক আরোহ। কেননা এখানে কার্যকারণ নীতির ওপর ভিত্তি করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে যে আরোহ অনুমান বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার সময় অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গৃহীত সিদ্ধান্তের মানের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত। তাই এখানে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে, সামান্য থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। যার ফলে এখানে নতুন জ্ঞানের সন্ধান মিলে। এ আরোহে সিদ্ধান্তটি সবসময় সার্বিক বাক্য হয়, যা কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন-
সক্রেটিস হয় বুদ্ধিজীবী।
প্লেটো হয় বুদ্ধিজীবী।
অ্যারিস্টটল হয় বুদ্ধিজীবী।
সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল হয় দার্শনিক।
অতএব, সকল দার্শনিক হয় বুদ্ধিজীবী।
উদাহরণটিতে সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল প্রমুখ দার্শনিকদের বুদ্ধিজীবী দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, সকল দার্শনিক হয় বুদ্ধিজীবী। এখানে দার্শনিকের সাথে বুদ্ধিজীবীর কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই উদাহরণটি বৈজ্ঞানিক আরোহের একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত। আলোচ্য উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রক্রিয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাই এটি বৈজ্ঞানকি আরোহ।