উদ্দীপকের ধারণা-১ এ সাধু সাদৃশ্যানুমান ও ধারণা-২ এ অসাধু সাদৃশ্যানুমান প্রকাশ পেয়েছে। কেননা এদের একটিতে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে। আর অন্যটিতে অমৌলিক, গুরুত্বহীন ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ধারণা-১ এর অনুমানটি সাধু সাদৃশ্যমান হওয়ায় সাধু সাদৃশ্যানুমান তুলনামূলকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. যে সাদৃশ্যানুমানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। অপরপক্ষে, যে সাদৃশ্যানুমানে অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
২. সাধু সাদৃশ্যানুমানে বৈসাদৃশ্যের চেয়ে সাদৃশ্যের সংখ্যা বেশি থাকে। অর্থাৎ সাধু সাদৃশ্যানুমানে যে দুটি বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সেখানে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্যের সংখ্যা কম হয়। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে।
৩. সাধু সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের একটি সম্ভাবনা থাকে। কারণ এখানে মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যগুলো অনেক সময় আবশ্যিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। কেননা কোনো অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় কার্যকারণ সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে না।
৪. সাধু সাদৃশ্যমূলক অনুমানের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এর সিদ্ধান্ত অধিক সম্ভাব্য এমনকি নিশ্চিতও হতে পারে। অন্যদিকে, অসাধু সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রে অমৌলিক, বাহ্যিক ও অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বিধায় এ প্রকার সাদৃশ্যানুমান একটি ভ্রান্ত প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলা যায়, সাধু ও অসাধু সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে উভয় প্রকার সাদৃশ্যানুমানের মধ্যে সাধু সাদৃশ্যানুমানে অনেক মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। তাই সাধু সাদৃশ্যানুমানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।