উদ্দীপকে বর্ণিত দৃষ্টান্ত হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ (Perfect Induction)। যা প্রকৃতপক্ষেই কোনো আরোহ নয় ।
যে আরোহ অনুমানে প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণের (Observation) ভিত্তিতে সার্বিক যুক্তিবাক্য (Universal Proposition) প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে । পূর্ণাঙ্গ আরোহের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করার পর সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যেমন- লিচু বাগানের বিশটি গাছের প্রতিটিই পর্যবেক্ষণ করে যখন আর অন্য কোনো ফলের গাছ না পাওয়া যায় কেবল তখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, বাগানের সব গাছ লিচুর। বস্তুত, আরোহ অনুমানের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত বিধায় একে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না । উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় যশোর জিলার দামুখালী গ্রামের ৩৬ জন লোক শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় গ্রামের প্রতিটা বাড়ির ছেলেমেয়ে স্কুলগামী। অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকার কারণে এটি একটি অপ্রকৃত আরোহের দৃষ্টান্ত। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত পূর্ণাঙ্গ আরোহ সত্যিকারের আরোহ নয়। কারণ ব্রিটিশ যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ আরোহ নিছক জ্ঞাত ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত সমষ্টিকরণ। উদ্দীপকে উল্লিখিত সিদ্ধান্তে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত। পাশাপাশি এ বাক্যটি দেখতে সার্বিক হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে তা সার্বিক নয়। এ দুটি কারণে আমি মনে করি পূর্ণাঙ্গ আরোহ আদৌ কোনো আরোহ নয় ।