দৃশ্যকল্প-২ এ অন্বয়ী পদ্ধতি এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ ব্যতিরেকী পদ্ধতির ইঙ্গিত রয়েছে। নিম্নে পদ্ধতি দুটি বিশ্লেষণ করা হলো-
অন্বয় শব্দের অর্থ হলো মিল। অন্বয়ী পদ্ধতি অনুসারে একাধিক ঘটনার একটি সাধারণ অবস্থাকে ঐ সব ঘটনার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি একটি সহজ-সরল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে নিরীক্ষণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করা যায়। এ কারণে এ পদ্ধতিকে নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় । অন্বয়ী পদ্ধতিতে যেমন সহজেই কার্য থেকে কারণ নির্ণয় করা যায় তেমনি কারণ থেকেও কার্য নির্ণয় করা যায়। যেমন- দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত, সকল ক্ষেত্রে অ্যানোফিলিস মশার কামড়ই ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণ। অর্থাৎ ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ওপর অনুসন্ধান করে দেখা গেছে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই অ্যানোফিলিস মশার কামড় খাওয়ার ঘটনা বর্তমান। তাই অন্বয়ী পদ্ধতি অনুসারে বলা যায়, অ্যানোফিলিস মশার কামড়ই ম্যালেরিয়া জ্বরের কারণ।
ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত পরীক্ষণের পদ্ধতি। এ পদ্ধতির ব্যাখ্যায় দুটি দৃষ্টান্তের প্রয়োজন হয়। দৃষ্টান্ত দুটির একটি সদর্থক এবং অপরটি নঞর্থক হয়। সদর্থক দৃষ্টান্তে ঘটনার কারণ ও কার্য উপস্থিত থাকে এবং নঞর্থক দৃষ্টান্তে তা থাকে না। এ থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ঘটনাটির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আছে। যেমন-দৃশ্যকল্প-৩ এ বর্ণিত, যে পাত্রে বাতাস আছে সে পাত্রের ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায়। যে পাত্রে বাতাস নেই, সে পাত্রের ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায় না। অর্থাৎ সদর্থক ও নর্থক দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে বলা হয় দৃশ্যকল্প-৩ এ ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রতিফলন ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, অন্বয়ী পদ্ধতি ও ব্যতিরেকী পদ্ধতি হলো পরীক্ষণ। পদ্ধতির দুটি মৌলিক রূপ। দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ এগুলোর দৃষ্টান্তই পরিলক্ষিত হয়।