উদ্দীপকে বটগাছ ও পেয়ারার ধারণায় ঘটনা সংযোজন ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে। নিচে উভয় আরোহের মধ্য পার্থক্য উপস্থাপন করা হলো-
প্রথমত, ঘটনা সংযোজনে আরোহমূলক লম্ফ নেই। অর্থাৎ এ অনুমানে ব্যষ্টিক থেকে সমষ্টিতে ও জানা থেকে অজানায় গমনের কোনো সুযোগ নেই। এরূপ অনুমানে নিরীক্ষিত ঘটনাবলিকে একটি ধারণার মাধ্যমে আবদ্ধ করা হয় মাত্র। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে আরোহমূলক লম্ফ। এখানে আমরা কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পরীক্ষার পর সমুদয় দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য অনুমান করি। অর্থাৎ এখানে আমরা কিছু থেকে সকলে, জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিত ঘটনায় পদার্পণ করি।
দ্বিতীয়ত, ঘটনা সংযোজন আসলে একটি অবরোহমূলক প্রক্রিয়া। অবরোহ অনুমানে আমরা সামান্য ধারণা থেকে বিশেষ ধারণায় উপনীত হই। সেরূপ ঘটনা সংযোজনের বেলায় আমাদের মনের মধ্যে আগে থেকেই যে ধারণা তাকে তার সহায়তায় আমরা একটি বিশেষ ধারণাকে স্থাপন করি। কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি খাঁটি ও আদর্শ আরোহ প্রক্রিয়া। কেননা, আরোহের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যই এর মধ্যে উপস্থিত।
তৃতীয়ত, ঘটনা সংযোজনের সিদ্ধান্তটি একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য নয়। এটি বিশিষ্ট ধারণার প্রতিবেদনকারীর একটি বিশিষ্ট যুক্তিবাক্য। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময়ই একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় মুন্নি পাহাড়ি জঙ্গলের একটি গাছের বিভিন্ন বিষয় দেখে নিশ্চিত হয় যে, এটি একটি বট গাছ। অর্থাৎ সে বিভিন্ন ঘটনা সংযোগ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে। এ কারণে বটগাছের বিষয়টি ঘটনা সংযোগ আরোহের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে মুন্নি পেয়ারা খেয়ে এ সি Color উপনিত হয়েছে যে, পেয়ারা হয় সুস্বাদু। অর্থাৎ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির আলোকে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে বলা যায়, পেয়ারার ধারণা অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, ঘটনা সংযোজন ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ দুটো ভিন্ন অনুমান প্রক্রিয়া। কিন্তু উভয় অনুমান প্রক্রিয়া অভিজ্ঞতা নির্ভর হওয়ার কারণে এদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।