দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ যথাক্রমে চক্রক সংজ্ঞা ও রূপক সংজ্ঞা নামক দু'টি বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। নিচে উভয় বিষয়ের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য আলোচনা করা হলো-আমরা জানি, কোনো পদের সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হলে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন- দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত 'রজনী হয় যামিনী।' অর্থাৎ এখানে রজনী পদের সংজ্ঞায় সমার্থক শব্দ যামিনী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে দৃশ্যকল্প-১ এ চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞায় সর্বদা মূল বা অপরিহার্য শব্দ ব্যবহার করতে হয়। এর পরিবর্তে রূপক শব্দ ব্যবহার করে কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়া হলে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত 'জীবন হলো বেদনা।' এখানে জীবনকে বেদনা নামক রূপকের আশ্রয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই এখানে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।উৎপত্তিগত অর্থে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তির মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান। সাধারণত যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক শব্দ ব্যবহার করলে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।পরিশেষে বলা যায়, রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি, উভয়ই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে সৃষ্ট। আমরা যদি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম ও তৃতীয় নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করি তবে উভয় অনুপপত্তি এড়াতে পারব।