উদ্দীপকে সোহেল ও শিশিরের বক্তব্যে যথাক্রমে বাহুল্য ও চক্রক সংজ্ঞাদোষ ঘটেছে। নিচে উভয় বিষয় তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো- কোনো পদের সংজ্ঞায় যদি পদটির প্রকৃত জাত্যর্থ থেকে অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ থাকে এবং সে অতিরিক্ত গুণ যদি ঐ পদের উপলক্ষণ হয়, তাহলে সংজ্ঞা ভ্রান্ত হবে। এরূপ ভ্রান্ত সংজ্ঞার নাম বাহুল্য সংজ্ঞা। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায়, সোহেল মানুষ পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলে, মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন শিক্ষিত জীব। এখানে মানুষ পদের প্রকৃত জাত্যর্থ থেকে অতিরিক্ত 'শিক্ষিত' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ, জাত্যর্থ নয়। অর্থাৎ সোহেলের সংজ্ঞা বাহুল্য দোষে দুষ্ট। অন্যদিকে, কোনো পদের সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হলে চক্রক সংজ্ঞা (Tautologous Definition) নামক অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় শিশির বলে, মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব। এখানে 'মনুষ্য' হলো 'মানুষ' পদের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ। এ কারণে দৃষ্টান্তটি চক্রক সংজ্ঞা হিসেবে পরিগণিত।
উৎপত্তিগত অর্থে বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তির মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান। আমরা জানি, যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অমান্য করলে বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় যদি প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হয় তবে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি উভয়ই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে সৃষ্ট। আমরা যদি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম ও তৃতীয় নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করি তবে উভয় অনুপপত্তি এড়াতে পারব।