উদ্দীপকে মামুনের বক্তব্যে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি (Fallacy of Too Narrow Definition) ঘটেছে।
আমরা জানি, যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুসারে, 'কোনো পদের সংজ্ঞায় পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হয়।' এই নিয়ম অমান্য করে আমরা যদি কোনো পদের সংজ্ঞায় অতিরিক্ত জাত্যর্থ উল্লেখ করি তাহলে উক্ত পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পাবে। এর ফলে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটবে। যেমন- 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন স্বার্থপর জীব'। এখানে 'স্বার্থপর' বিশেষণটি মানুষ পদের বিয়োজ্য অবান্তর লক্ষণ এবং এটি মানুষ পদের জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ হিসেবে উল্লেখ করায় অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। পাশাপাশি এ দৃষ্টান্তে মানুষ পদের জাত্যর্থের সাথে স্বার্থপর শব্দটি অতিরিক্ত যোগ করায় মানুষের মধ্যে যারা স্বার্থপর তাদের এই সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যারা স্বার্থপর নয় তাদেরকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ এ সংজ্ঞায় নেই। কেননা 'মানুষ' পদের প্রকৃত ব্যক্ত্যর্থ থেকে সংজ্ঞাটি কম ব্যাপক। অর্থাৎ এখানে মানুষ পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেয়েছে। ফলে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় মামুন 'বিড়াল' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলে, 'বিড়াল হয় চতুষ্পদী ইতর প্রাণী'। এখানে সে 'বিড়াল' পদের সংজ্ঞায় 'চতুষ্পদী ইতর' নামক অতিরিক্ত গুণ উল্লেখ করেছে। এ কারণে 'বিড়াল' পদের ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেয়েছে। ফলে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, সংজ্ঞা প্রদানের সময় কোনো পদের জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ উল্লেখ করা হলে এবং তা ঐ পদের বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের মামুন 'বিড়াল' পদের সংজ্ঞায় দিতে গিয়ে অতিরিক্ত গুণ উল্লেখ করেছে বিধায় তার বক্তব্যে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।