সোহেল ও নাসিরের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনার বিষয় ফুটে উঠেছে। নিচে উভয় বিষয়ের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য আলোচনা করা হলো-
১. যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হয়। যেমন— 'মানুষ' পদের সংজ্ঞায়নে জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি উভয়ই উল্লেখ করলে তা যৌক্তিক সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, বর্ণনার ক্ষেত্রে পূর্ণ জাত্যর্থ বা অপরিহার্য অর্থ উল্লেখ করা আবশ্যক নয়। যেমন— 'মানুষ' পদের বর্ণনায় আমরা শুধু জীববৃত্তি অথবা বুদ্ধিবৃত্তি যেকোনো একটি গুণ উল্লেখ করতে পারি। কিংবা জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি একটিও গুণ উল্লেখ না করে নিছক বিবৃতি দিতে পারি ।
২. সংজ্ঞার ক্ষেত্রে জাত্যর্থ ছাড়া অন্য কোনো গুণ উল্লেখ করা হয় না। অর্থাৎ সংজ্ঞায় অবান্তর গুণ আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। অপরদিকে,বর্ণনার ক্ষেত্রে উপলক্ষণ (Proprium or Property) ও অবান্তর লক্ষণ (Accidens) উল্লেখ করা হয়।
৩. সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পূর্ণ জাত্যর্থ হিসেবে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন কোনো নিয়ম বা পদ্ধতি নেই ।
৪. যে সকল পদের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব সে পদের বর্ণনাও প্রদান করা যায়। কিন্তু এমন অনেক পদ বা বিষয় রয়েছে যার বর্ণনা দেওয়া যায় কিন্তু সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়। যেমন- দ্রব্য, টাকা, সততা ইত্যাদি ।
পরিশেষে বলা যায়, যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনা দু'টি ভিন্ন বিষয়। তবে আমরা ব্যবহারিক জীবনে যেরূপ বিবৃতি প্রদান করি তা বর্ণনা হিসেবেই অধিক পরিচিত।