উদ্দীপকে রবিন ও তপনের বক্তব্যের আলোকে যে সংজ্ঞা দোষ ঘটেছে তার তুলনামূলক ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে রবিন ও তপনের বক্তব্যে যথাক্রমে বাহুল্য ও চক্রক সংজ্ঞা দোষ ঘটেছে। নিচে উভয় বিষয়ের তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো— কোনো পদের সংজ্ঞায় যদি অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ থাকে এবং সে গুণটি যদি ঐ পদের উপলক্ষণ হয়, তাহলে সংজ্ঞাটি ভ্রান্ত হবে। এরূপ ভ্রান্ত সংজ্ঞার নাম বাহুল্য সংজ্ঞা। উদ্দীপকের সোহেল মানুষ পদের সংজ্ঞায় বলে, মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন শিক্ষিত জীব। এখানে 'শিক্ষিত' গুণটি মানুষ পদের উপলক্ষণ, জাত্যর্থ নয়। অর্থাৎ রবিনের সংজ্ঞা বাহুল্য দোষে দুষ্ট। অন্যদিকে, কোনো পদের সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হলে চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের তপন বলে, মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব। এখানে 'মনুষ্য' হলো 'মানুষ' পদের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ। এ কারণে দৃষ্টান্তটি চক্রক সংজ্ঞা হিসেবে পরিগণিত। উৎপত্তিগত অর্থে বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তির মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান। আমরা জানি, যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অমান্য করলে বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হলে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। পরিশেষে বলা যায়, বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি উভয়ই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে সৃষ্ট। আমরা যদি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম ও তৃতীয় নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করি তবে উভয় অনুপপত্তি এড়াতে পারব।
HSC Logic 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Logic 2nd Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে রবিন ও তপনের বক্তব্যের আলোকে যে সংজ্ঞা দোষ ঘটেছে তার তুলনা…
উদ্দীপক
ঢাকা কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর