দৃশ্যকল্প-১ হলো যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো বর্ণনার দৃষ্টান্ত। নিচে উভয় বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-যৌক্তিক সংজ্ঞা হচ্ছে যথার্থ যুক্তি গঠনের জন্য যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের অর্থকে সুস্পষ্ট করে উপস্থাপন করার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ যৌক্তিক সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো, পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা। এ কারণে যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়। সংজ্ঞা হয় সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। এ কারণে সংজ্ঞা সবসময় একই হয়ে থাকে। তাই এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত বর্ণনার ক্ষেত্রে উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পদের বিবৃতি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয় না। বর্ণনা সুনির্ধারিত বা সুনির্দিষ্ট নয়। তাই বর্ণনা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয় বলে এটি একটি লৌকিক প্রক্রিয়া। এ কারণে সংজ্ঞা ও বর্ণনা একটি থেকে অন্যটি পৃথক।যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও উভয়ের মাধ্যমে পদের অর্থ অধিক স্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই পদের গুণ বা বৈশিষ্ট্য সহজ কথায় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কোনো বিষয়ের পঠন-পাঠনে উভয় প্রক্রিয়াই ব্যবহার করা হয়।