উদ্দীপকে রোদেলা ও কনক এর বক্তব্য যথাক্রমে রূপক সংজ্ঞা এবং নঞর্থক সংজ্ঞা নির্দেশ করে। নিচে উভয় সংজ্ঞার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যায় না। যৌক্তিক সংজ্ঞার এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় রূপক ভাষা ব্যবহার করলে সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক সংজ্ঞার এই ত্রুটিকে রূপক সংজ্ঞা বলে।তেমনি উদ্দীপকের রোদেলা উটকে রূপক অর্থে মরুভূমির জাহাজ বলেছে। তাই তার বক্তব্যে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। অন্যদিকে, কোনো পদের সংজ্ঞায় নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করলে সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক সংজ্ঞার এই ত্রুটিকে নঞর্থক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকের কনক বলে, কোনো গ্রাম নয় অসুন্দর। এখানে সে নঞর্থক ভাষায় গ্রাম পদের সংজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণে তার বক্তব্যে নঞর্থক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।রূপক সংজ্ঞাটি জড়িত যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়মের সাথে। অর্থাৎ যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে রূপক ভাষা ব্যবহার করলে এরূপ ভ্রান্ত সংজ্ঞার উৎপত্তি হয়। কিন্তু নঞর্থক সংজ্ঞা জড়িত যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়মের সাথে। অর্থাৎ যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম লঙ্ঘন করে নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করলে নঞর্থক সংজ্ঞার উৎপত্তি হয়। পরিশেষে বলা যায় যে, রূপক সংজ্ঞা এবং নঞর্থক সংজ্ঞা উভয়ই ভ্রান্ত সংজ্ঞা এ তবে প্রকৃতিগত ভিন্নতার কারণে উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে