দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দ্বারা যথাক্রমে বর্ণনা ও যৌক্তিক সংজ্ঞা বিষয় দুটি নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে উভয় বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনা সমার্থক নয়। সংজ্ঞায় আমরা কোনো পদের সমগ্র জাত্যর্থ হিসেবে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করি। যেমন- দৃশ্যকল্প-৩ এ বর্ণিত, ছয়টি বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রকে ষড়ভুজ বলে। এখানে 'ছয়টি বাহু দ্বারা' ও 'সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র' নামক বিভেদক লক্ষণ ও আসন্নতম জাতির মাধ্যমে ষড়ভুজের যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্ণনায় আমরা শুধু পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ কিংবা উভয়ই উল্লেখ করি। যেমন- দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত, বরিশাল হয় ধান, নদী, মাছ ও পান সমৃদ্ধ জেলা। এটি বরিশাল পদের অপরিহার্য অর্থ প্রকাশ করে না, বরং নিছক বিবৃতি মাত্র। এ কারণে যুক্তিবিদরা মনে করেন, যৌক্তিক সংজ্ঞা একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্ণনা একটি প্রচলিত বা লৌকিক প্রক্রিয়া একজন ব্যক্তি বা একটি বস্তুকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা যায়। কিন্তু একটি পদের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্ণনায় এরূপ কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। পাশাপাশি সংজ্ঞা সর্বদা সদর্থক হয়; কিন্তু বর্ণনা সদর্থক কিংবা নঞর্থক উভয়ই হতে পারে। সর্বোপরি নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করা হলে সংজ্ঞায় অনুপপত্তি ঘটে, কিন্তু বর্ণনায় এ সমস্যা নেই। তাই বলা যায়, বর্ণনা ও যৌক্তিক সংজ্ঞা দুটি পরস্পর থেকে আলাদা ও স্বতন্ত্র বিষয়।