দৃষ্টান্ত-২ এর যৌক্তিক সংজ্ঞাটি যথার্থ নয়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো-যৌক্তিক সংজ্ঞার অন্যতম ভ্রান্ত রূপ হচ্ছে 'রূপক সংজ্ঞা', যার উদ্ভব ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এই নিয়মের মূলকথা হচ্ছে, কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে সেই পদের চেয়ে স্পষ্ট ও সহজ ভাষা ব্যবহার করতে হবে। সংজ্ঞাকে কোনো অবস্থায় দুর্বোধ্য বা রূপক ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কারণ সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংজ্ঞেয় পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য করা। কিন্তু কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে রূপক শব্দ ব্যবহার করা হলে পদটি ভিন্ন অর্থ ধারণ করে। এতে সংজ্ঞাটি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। যার ফলে সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। আর এরূপ ক্ষেত্রেই উদ্ভব ঘটে 'রূপক সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার।উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ বলা হয়েছে , শৈশব হলো জীবনের প্রভাতকাল। এটি একটি ভ্রান্ত সংজ্ঞা। কারণ এ সংজ্ঞায় 'শৈশব' পদটির স্বরূপ ব্যক্ত হয়নি, বরং এ ক্ষেত্রে যা ব্যক্ত হয়েছে তা থেকে মানুষের মনে শৈশব পদের একটি ভিন্ন ধারণা পেতে পারে। ফলে এতে সংজ্ঞেয় পদের প্রকৃত অর্থ অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। কাজেই সংজ্ঞেয় পদকে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হলে এর সংজ্ঞার্থে এমন ভাষা ব্যবহার করতে হবে, যা পদটির অন্তর্নিহিত রূপকে প্রকাশ করে এবং যা মূলত জাত্যর্থের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। অন্যথায় সংজ্ঞাটি রূপক ভাষার অন্তরালে থেকে ভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তাই বলা বলা যায়, দৃষ্টান্ত-২ এর যৌক্তিক সংজ্ঞাটি যথার্থ নয়।