উদ্দীপকের সোহেলের সংজ্ঞা যথার্থ নয়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো-উদ্দীপকে সোহেলের বক্তব্যে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। সংজ্ঞায় জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ থাকলে এবং তা বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলে অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি বা অতি সংকীর্ণ সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যথা- 'মানুষ একটা ভদ্র বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।' এ দৃষ্টান্তে মানুষের সংজ্ঞায় ভদ্রতা গুণটার অন্তর্ভুক্তি সংজ্ঞাটাকে সংকীর্ণ করে তুলেছে। কারণ, গুণটা কিছুসংখ্যক মানুষেরই আছে, সব মানুষের নেই।তেমনি উদ্দীপকে সোহেল বলে, মানুষ হয় শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী। এক্ষেত্রে 'শিক্ষিত' গুণটি হচ্ছে মানুষ পদের বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ, যা মানুষের সংজ্ঞায় অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়ার সংজ্ঞাটি অব্যাপক সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে। কারণ মানুষের সংজ্ঞায় 'শিক্ষিত' গুণটি যুক্ত করায় কেবল শিক্ষিত শ্রেণি মানুষের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর অশিক্ষিত শ্রেণি মানুষের বহির্ভূত রয়েছে। অথচ শিক্ষিত-অশিক্ষিত উভয় শ্রেণিই মানুষের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই 'শিক্ষিত' গুণটি মানুষের সংজ্ঞায় ব্যবহার করায় সংজ্ঞাটি ভ্রান্ত হয়েছে।তাই বলা যায় যে , উদ্দীপকের সোহেলের বক্তব্যে অব্যাপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটায় তার সংজ্ঞা যথার্থ নয়।