উদ্দীপকের শিক্ষকের কথাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-সংজ্ঞার প্রথম নিয়মানুসারে, যে পদের সংজ্ঞা দেয়া হয়, সে পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে, তার বেশি বা কম নয়। কাজেই সংজ্ঞায় উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না এবং আসন্নতম জাতি বা বিভেদক লক্ষণ বাদ দেয়া যাবে না। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে সংজ্ঞায় চার প্রকার অনুপপত্তি ঘটবে। নিচে এরূপ দুটি অনুপপত্তি বিশ্লেষণ করা হলো- বাহুল্য সংজ্ঞা: সংজ্ঞায় জাত্যর্থের বেশি কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হলে এবং জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণটা উপলক্ষণ হলে, সংজ্ঞায় বাহুল্যদুষ্ট সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যথা- 'মানুষ বিচার শক্তিশালী একটা বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'- এ সংজ্ঞাটা বাহুল্যদুষ্ট । কারণ এ সংজ্ঞায় 'বিচার শক্তিশালী' গুণটা অতিরিক্তভাবে (বাহুল্যভাবে) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরূপ সংজ্ঞাকে বাহুল্যদুষ্ট সংজ্ঞা বলে। আপতিক সংজ্ঞা: সংজ্ঞায় জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ থাকলে এবং তা অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হলে অবান্তর লক্ষণজনিত সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যথা- মানুষ একটা হাস্যপ্রিয়, বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। এ দৃষ্টান্তে 'হাস্যপ্রিয়' গুণটা মানুষের অবান্তর লক্ষণ। কাজেই মানুষের সংজ্ঞায় এটার উল্লেখ অপ্রয়োজনীয়।