দৃশ্যকল্প-২ এবং ১ এ যথাক্রমে রূপক সংজ্ঞা ও চক্রক সংজ্ঞা নামক দু'টি বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। দুটি বিষয়ই সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে সৃষ্টি দুটি অনুপপত্তি। নিচে এদের মধ্যে তুলনা করা হলো-আমরা জানি, যৌক্তিক সংজ্ঞায় সর্বদা মূল বা অপরিহার্য শব্দ ব্যবহার করতে হয়। যদি এর পরিবর্তে রূপক শব্দ ব্যবহার করে কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়া হলে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত, 'কবি হয় মাধুর্য ও আলোকের প্রচারক।' এটি রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তির দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, কোনো পদের সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হলে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন- দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত, 'পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হলেন যিনি পরীক্ষাসমূহ নিয়ন্ত্রণ করেন।' অর্থাৎ, এখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এ কারণে দৃশ্যকল্প-১ এ চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটেছে। উৎপত্তিগত অর্থে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তির মধ্যে ভিন্নতা বিদ্যমান। সাধারণত যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম।।লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক শব্দ ব্যবহার করলে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। অন্যদিকে, যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ও চক্রক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি উভয়ই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে সৃষ্ট। আমরা যদি যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করি, তবে উভয় অনুপপত্তি এড়াতে পারব।