'দৃশ্যকল্প-২'-এর মাধ্যমে সংজ্ঞা এবং 'দৃশ্যকল্প-৩' এর মাধ্যমে বর্ণনা নির্দেশিত হয়েছে। আর এই দুটি বিষয়ের মধ্যে বিভিন্ন রকম সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'দৃশ্যকল্প-২' এ 'মানুষ' পদটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'মানুষ হয় এক মাথা বিশিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব'। এখানে 'মানুষ' পদটির যথার্থ সংজ্ঞা উপস্থাপিত হয়নি কিন্তু বৃহত্তর অর্থে এর দ্বারা যৌক্তিক সংজ্ঞা নির্দেশিত হয়েছে। যৌক্তিক সংজ্ঞায় একটি পদের অপরিহার্য অর্থ প্রকাশ পায়। তাই কোনো একটি পদের অপরিহার্য দিক সংজ্ঞার মাধ্যমে জানা যায়। যৌক্তিক সংজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদানের জন্য ঐ নিয়মগুলো আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। তাই সকল ক্ষেত্রেই সংজ্ঞা একই রকম হয়ে থাকে। একটি পদের সংজ্ঞা তাই বস্তুগত হয়ে থাকে। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সব সময় সদর্থক ভাষা ব্যবহার করতে হয়। তাই ভাষাগত বিভিন্ন দিকও সংজ্ঞার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। তবে সকল পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কেননা সকল পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা যায় না। তাই বর্ণনার তুলনায় সংজ্ঞা ক্ষেত্র সীমিত। সংজ্ঞায় যেমন একটি পদকে স্পষ্ট করা হয়, তেমনি বর্ণনায়ত্ত একটি পদকে স্পর্শ করার চেষ্টা করা হয়।
অপরপক্ষে, কোনো একটি পদের আংশিক জাত্যর্থ বা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে প্রকাশ করলে তাকে বর্ণনা বলে। 'দৃশ্যকল্প-৩' এ 'জিরাফ' সম্পর্কে বলা হয়েছে- জিরাফ হয় লম্বা গলাযুক্ত প্রাণী। এখানে জিরাফ, এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে প্রকাশ করা হয়েছে। তাই 'দৃশ্যকল্প-৩' "এর মাধ্যমে বর্ণনা নির্দেশিত হয়েছে। কেননা বর্ণনায় কোনো একটি পদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে প্রকাশ হয়। সংজ্ঞার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও বর্ণনার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তাই কোনো একটি পদের বর্ণনা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এমন অনেক পদ' আছে যেগুলোর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। এসব ক্ষেত্রে পদের বর্ণনা দেওয়া যায়। এদিক থেকে তাই সংজ্ঞার চেয়ে বর্ণনার পরিধি ব্যাপক। বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনার বিষয় এবং বর্ণিত বিষয় সমান হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
পরিশেষে বলা যায় যে, সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য থাকলেও বর্ণনা একেবারে গুরুত্বহীন নয়। যেসব ক্ষেত্রে পদের সংজ্ঞা দেওয়া সেসব ক্ষেত্রে বর্ণনার আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়। আমরা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বর্ণনার ব্যবহার করে থাকি।