দৃশ্যকল্প–২: "সুজলা সুফলা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিবছর এ দেশে অনেক পর্যটন আসেন।" এই বাক্যে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উর্বরতা ও পর্যটন আকর্ষণের বর্ণনা রয়েছে। এখানে “সুজলা সুফলা” শব্দ দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রূপ ও সম্পদের কথা বোঝানো হয়েছে—যেমন নদী-নালা, সবুজ ফসলি মাঠ, পাহাড়, বন ইত্যাদি। এটি একটি রূপকধর্মী ভাষা, যার মাধ্যমে আবেগ-সংবেদনা জাগানো হয়েছে। এতে বর্ণনার নান্দনিকতা রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে।
এছাড়া এই বাক্যটি প্রশংসামূলক ও আবেগঘন, যেখানে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও গর্ব প্রকাশ পেয়েছে। এই ধরনের বাক্য সাহিত্যিক রচনায় বেশি ব্যবহৃত হয় এবং পাঠকের মধ্যে একটি চিত্রময় ও আবেগময় ভাব জাগায়। এটি একটি বাগার্থবোধক বাক্য, অর্থাৎ সরাসরি নয়, প্রতীকী ভাষায় বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প–৩: “ছাত্ররা হয় অধ্যয়নরত মানুষ।” এই বাক্যে ছাত্র শব্দটির সংজ্ঞামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। একজন ছাত্রের প্রধান পরিচয় ও দায়িত্ব হলো পড়াশোনা করা, তা-ই এখানে বোঝানো হয়েছে। এটি একটি তাত্ত্বিক ও সংজ্ঞামূলক বাক্য, যা কাউকে বা কিছু ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়। এই বাক্যে ব্যাকরণগতভাবে নিখুঁতভাবে একটি শ্রেণির (ছাত্র) মূল গুণ (অধ্যয়নরত থাকা) প্রকাশ করা হয়েছে।
এই বাক্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ভাষার সাংগাঠনিক ব্যবহার এর উদাহরণ। এখানে কোনো সাহিত্যিক রূপক বা অলংকার ব্যবহার করা হয়নি। বরং সোজাসাপ্টা ও তথ্যভিত্তিকভাবে একটি পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। এটি শিক্ষামূলক বা একাডেমিক লেখায় ব্যবহার উপযোগী।
সার্বিকভাবে, দৃশ্যকল্প–২ হলো সাহিত্যিক ও রূপকধর্মী বাক্য, যেখানে সৌন্দর্য ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, আর দৃশ্যকল্প–৩ হলো সংজ্ঞামূলক ও তথ্যভিত্তিক বাক্য, যা বাস্তবমুখী ও জ্ঞানকেন্দ্রিক।