উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এর মাধ্যমে নঞর্থক সংজ্ঞা এবং দৃষ্টান্ত-২ এর মাধ্যমে রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা কোনো দৃষ্টান্তেই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
যৌক্তিক সংজ্ঞা যুক্তিবিদ্যার একটি অপরিহার্য অংশ। কেননা যৌক্তিক সংজ্ঞায় পদের জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়। তাই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কতকগুলো নিয়ম আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম অনুসারে পদের সংজ্ঞা সব ক্ষেত্রে সদর্থক বা ইতিবাচক হতে হবে, কোনো অবস্থাতেই নেতিবাচক বা মঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। যৌক্তিক সংজ্ঞার এ নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো সংজ্ঞায় যদি নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা হয় তাহলে নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ অজ্ঞানতাকে জ্ঞানের অভাব বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মবিরোধী। তাই সংজ্ঞাটিতে নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-২ এ "শৈশব হলো জীবনের প্রভাতকাল।" এখানে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে রূপক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কেননা রূপক ভাষা ব্যবহার - করলে পদের অর্থ স্পষ্ট হয় না। তাই কোনো সংজ্ঞায় রূপক ভাষা ব্যবহার করে সংজ্ঞা প্রদান করলে সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ উল্লিখিত সংজ্ঞাটিতেও রূপক ভাষা ব্যবহার করার কারণে সংজ্ঞাটিতে রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ উভয়ই ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞা। উভয় সংজ্ঞার ক্ষেত্রেই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। তাই সংজ্ঞাতে অনুপপত্তি ঘটেছে।