উদ্দীপকে মৃদুলের বক্তব্যে দুর্বোধ্য সংজ্ঞা নির্দেশ করে। নিচে দুর্বোধ্য সংজ্ঞার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো—
কোনো পদের সংজ্ঞায় সহজ-সরল ভাষার পরিবর্তে দুর্বোধ্য ও জটিল ভাষা ব্যবহার করলে দুর্বোধ্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে (Fallacy of Obscure Definition)। যেমন— 'বটবৃক্ষ হচ্ছে জটাজট লাঞ্ছিত সবিতাতপ নিরোধক মহাস্থবির পাদপ।' এই উদাহরণটি দুর্বোধ্য হওয়ায় দুর্বোধ্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। অর্থাৎ সংজ্ঞাটি দুর্বোধ্য ও জটিল। এতে দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত, মৃদুল তার বন্ধু সোহানকে বলে, 'মনুষ্য হইল হর্ষ, ক্লেশ, লাঞ্ছিত, বোধশক্তিসম্পন্ন দেহান্ত জীবাত্মা।' মৃদুল এখানে জটিল ভাষায় বা দুর্বোধ্যভাবে 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিয়েছে। কারণ সংজ্ঞায় উল্লিখিত 'হর্ষ', 'ক্লেশ', 'লাঞ্ছিত', 'বোধশক্তিসম্পন্ন দেহান্ত জীবাত্মা' প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত কঠিন, জটিল ও দুর্বোধ্য। এরূপ দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করার কারণে মৃদুলের সংজ্ঞাটি ভ্রান্ত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যায় এরূপ ভ্রান্ত সংজ্ঞাকে বলে দুর্বোধ্য সংজ্ঞা।