দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ নির্দেশিত সংজ্ঞা দুটি হলো যথাক্রমে চক্রক সংজ্ঞা ও অতিব্যাপক সংজ্ঞা। নিচে চক্রক সংজ্ঞা ও অতিব্যাপক সংজ্ঞার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো—
যৌক্তিক সংজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলো কোনো পদের 'সংজ্ঞা প্রদানের জন্য আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের সংজ্ঞায় পদটির সমার্থক বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যাবে না। যৌক্তিক সংজ্ঞার এই নিয়ম লঙ্ঘন করে যদি কোনো পদের সংজ্ঞায় সমার্থক বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয় তাহলে সংজ্ঞা ত্রুটিপূর্ণ হয় । যৌক্তিক সংজ্ঞার এই ত্রুটিকে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'ফুল' পদের সংজ্ঞায় 'পুষ্প' পদটি উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে 'ফুল' ও 'পুষ্প' পরস্পর সমার্থক শব্দ। অর্থাৎ এখানে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তাই দৃশ্যকল্প-১ এ চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরপক্ষে, কোনো পদের সংজ্ঞায় যদি দেখা যায় যে, সংজ্ঞার্থ পদ সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্ত্যর্থকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, তাহলে সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ অতিব্যাপক সংজ্ঞা বলে বিবেচিত হবে। যেমন— উদ্দীপকর দৃশ্যকল্প-২ এ 'জবা' পদটিকে সপুষ্পক উদ্ভিদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করায় অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা, এখানে সপুষ্পক উদ্ভিদের ব্যক্ত্যর্থ জবা ফুলের ব্যক্ত্যর্থকে অতিক্রম করেছে। জবা ফুল ছাড়াও আরও অনেক সপুষ্পক উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করেই সপুষ্পক উদ্ভিদ গুণটি কেবল জবা ফুলের বেলায় স্বীকার করা হয়েছে। এর ফলে দৃষ্টান্তটিতে অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ নির্দেশিত চক্রক সংজ্ঞাটিতে যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করায় এবং দৃশ্যকল্প-২ নির্দেশিত অতিব্যাপক সংজ্ঞায় যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়মটি লঙ্ঘন করায় উভয়ই ভ্রান্ত সংজ্ঞার দিক দিয়ে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।