দৃশ্যকল্প-২ এ নঞর্থক সংজ্ঞা ও দৃশ্যকল্প-৩ এ আপতিক বা অবান্তর সংজ্ঞা প্রতিফলিত হওয়ায় তা যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
কোনো পদের জাত্যর্থের পূর্ণ বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলা হয়। যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদানের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। উক্ত নিয়মাবলি লঙ্ঘন করলে যৌক্তিক সংজ্ঞায় অনুপপত্তি দেখা যায়। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম ও দৃশ্যকল্প-৩ এ প্রথম নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম — কোনো পদের সংজ্ঞা, সদর্থকভাবে দেওয়া সম্ভব হলে সংজ্ঞায় কখনই নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। এ নিয়মটি লঙ্ঘন করে শৈশব কী' তা না বলে শৈশব কি নয়' তাই বলা হয়েছে। তাই এখানে যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়মটি লঙ্ঘন করে নঞর্থকভাবে সংজ্ঞা প্রদান করায় নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। আবার, দৃশ্যকল্প-৩ এ সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম — যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সেই পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে; তার চেয়ে বেশিও নয়, কমও নয়। এ নিয়মটি লঙ্ঘন করে শিমূলকে লাল রংয়ের ফুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এখানে আপতিক বা অবান্তর সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা 'লাল রং হচ্ছে শিমুল ফুলের জাতিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। আর একটি সংজ্ঞায় উল্লেখিত অতিরিক্ত গুণটুকু যদি পদের অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হয়, তাহলে এরূপ ভ্রান্ত সংজ্ঞাকে আপতিক বা অবান্তর সংজ্ঞা বলে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এর নঞর্থক সংজ্ঞা ও দৃশ্যকল্প-৩ এর আপতিক বা অবান্তর সংজ্ঞা যথাক্রমে যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ ও প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনকে নির্দেশ করছে। তাই যৌক্তিক সংজ্ঞার ভ্রান্ত প্রয়োগে এ জাতীয় অনুপপত্তিমূলক সংজ্ঞার সৃষ্টি হয়৷