শিক্ষকের যথার্থ সংজ্ঞা বলতে যৌক্তিক সংজ্ঞাকে বুঝিয়েছেন আর দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর বক্তব্যে উদ্ভিদের বর্ণনা প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে সংজ্ঞা ও বর্ণনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো—
১. কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে সহজ, সরল ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। অন্যদিকে, কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ বা উভয়ই উল্লেখ করে কোনো পদকে ব্যক্ত করাকে বর্ণনা বলে ।
২. সংজ্ঞা প্রদানে কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হয় বিধায় এখানে পদটির আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের উল্লেখ ... বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, বর্ণনার ক্ষেত্রে পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয় না। তাই এক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের উল্লেখ বাধ্যতামূলক নয় ।
৩. যৌক্তিক সংজ্ঞার সুনির্দিষ্ট কতকগুলো নিয়ম রয়েছে। কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদানের সময় ঐ নিয়মগুলো আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। অন্যদিকে, বর্ণনার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তাই বর্ণনার ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে নিয়ম অনুসরণের কোনো প্রয়োজন পড়ে না ।
৪. সকল পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কেননা সকল পদের জাত্যর্থ উল্লেখ করা সবসময় সম্ভব হয় না। অন্যদিকে, সকল পদের বর্ণনা দেওয়া যায়।
৫. সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বিধায় এটি সবসময় একই থাকে। অর্থাৎ, স্থান-কাল-পাত্রভেদে সংজ্ঞা সবসময় একই থাকে। অন্যদিকে, বর্ণনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয় না বিধায় বর্ণনা ভিন্ন হয়ে থাকে। অর্থাৎ, স্থান-কাল- পাত্রভেদে বর্ণনা ভিন্ন ভিন্ন হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে কিছু কিছু দিক থেকে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও রয়েছে।