দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষকে জাত্যর্থ ছাড়া অন্যান্য গুণ দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ মানুষের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করায় যৌক্তিক সংজ্ঞা হয়েছে। বর্ণনা ও সংজ্ঞার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। প্রথমত, কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে প্রকাশ করাই হলো সংজ্ঞা। অপরদিকে, কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ অথবা জাতার্থের অংশবিশেষ এগুলোকে একসাথে মিশিয়ে উল্লেখ করা হলো বর্ণনা। যেমন দৃশ্যকল্প-৩ এ মানুষের সংজ্ঞায় পূর্ণ জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি উল্লেখ করায় এটি যৌক্তিক সংজ্ঞা। কিন্তু দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষের সমাজে বসবাস করা, সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গুণগুলো দ্বারা অবান্তর লক্ষণকে উল্লেখ করায় এটি বর্ণনা। দ্বিতীয়ত, সংজ্ঞা নিয়মকানুনের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিয়ম লঙ্ঘন করলে অনুপপত্তি ঘটে। কিন্তু বর্ণনার ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। তাই কোনো অনুপপত্তি ঘটে না। তৃতীয়ত, কোনো পদের সংজ্ঞায় ব্যক্তির ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই। কেননা এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে জাত্যর্থকেই উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যক্তির ইচ্ছার ব্যাপক স্বাধীনতা রয়েছে। যেকোনো গুণ, দোষ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মাধ্যমে উল্লেখ করা যায়। এ কারণে কোনো পদের বর্ণনা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। চতুর্থত, যে পদের কোনো জাতার্থ নেই, সেই পদের কখনো সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কিন্তু জাত্যর্থক, অজাত্যর্থক ইত্যাদি সকল পদের বর্ণনা দেওয়া যায়। পঞ্চমত, সংজ্ঞার মূল্য সবসময়ই সমান। কিন্তু বর্ণনার মূল্য সবসময় সমান নয়। বিবৃত গুণগুলো যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, বর্ণনা তত বেশি মূল্যবান হয়। ষষ্ঠত, সংজ্ঞার মাধ্যমে একটি পদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়। সে জন্য সংজ্ঞা হলো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্ণনার মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। সেই হিসেবে বর্ণনা হলো লৌকিক প্রক্রিয়া।