উদ্দীপকে রাফির বক্তব্যে দুর্বোধ্য সংজ্ঞা আর শাফির বক্তব্যে অবান্তর সংজ্ঞা নির্দেশিত হয়।' পদের অপরিহার্য গুণাবলি যৌক্তিক সংজ্ঞার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পদের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অবশ্যই পালন করতে হয়। এর মধ্যে সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম হলো সংজ্ঞায় দুর্বোধ্য, দ্ব্যর্থক বা আলঙ্করিক শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। সংজ্ঞায় যদি কোনো দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাহলে সংজ্ঞায় মূল উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়। এরূপ ক্ষেত্রে যথার্থ সংজ্ঞা না হয়ে দুর্বোধ্য সংজ্ঞার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের রাফির বক্তব্য তাই যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে শাফি ঘোড়ার যে সংজ্ঞা প্রদান করেছে, তাতে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী সংজ্ঞায় অবশ্যই একটি পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থকে উল্লেখ করতে হবে এর বেশি বা কম হলে চলবে না। অর্থাৎ সংজ্ঞার যদি সংজ্ঞেয় পদের জাত্যর্থের অতিরিক্ত কিছু উল্লেখ করা হয় এবং সে অতিরিক্ত গুণটি যদি অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ হয়, তবে সংজ্ঞাটি অবান্তর সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকে শাফি তার বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞা প্রদান করেছে। তাই সংজ্ঞাটি যথার্থ হয়নি।