দৃশ্যকল্প-২ এ মানুষের পূর্ণ জাতার্থ উল্লেখ করায় যৌক্তিক সংজ্ঞা নির্দেশিত হয়েছে এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ চট্টগ্রাম নামক একটি স্পানকে বিভিন্ন গুণ দ্বারা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। যেমন-
১. সংজ্ঞা হচ্ছে কোনো পদের সম্পূর্ণ জাতাথকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ। অন্যদিকে, কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ বা জাতার্থের অংশবিশেষের সাথে এগুলোকে মিলিয়ে উল্লেখ করাকে বর্ণনা বলে।
২ . কোনো পদের ক্ষেত্রে সবসময় সংজ্ঞা প্রদান করতে হয়। কিন্তু বর্ণনা প্রদান করা হয় কোনো বিষয় বা বস্তুর।
৩. সংজ্ঞা হচ্ছে একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, বর্ণনা একটি লৌকিক প্রক্রিয়া।
৪. সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। অন্যদিকে, বর্ণনার ক্ষেত্রে উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়।
৫. সংজ্ঞার মূল্য সবসময়ই সমান হয়ে থাকে। অন্যদিকে, বর্ণনার মূল্য সবসময়ই সমান হয় না।
৬. সংজ্ঞার মাধ্যমে আমরা একটা পদ সম্পর্কে পুনরুক্তি ও অসংগতি দূর করতে পারি। অন্যদিকে, বর্ণনার মাধ্যমে পদ সম্পর্কিত পুনরুক্তি বা অসংগতি দূর করা সম্ভব নয়।
৭. পদের অর্থ সুনির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত হওয়ার ফলে একটা পদের কেবল একটা সংজ্ঞাই হয়; কিন্তু, একটি বস্তুর একাধিক বর্ণনা হতে পারে।
৮. যে পদের কোনো জাতার্থ নেই সে পদের কখনো সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কিন্তু জাত্যর্থক, অজাত্যর্থক ইত্যাদি সকল পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায়।