উদাহরণ-১ এ 'সিংহ' এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, "সিংহ বনের রাজা।" এই সংজ্ঞায় 'সিংহ' এর রূপক ভাষা 'বনের রাজা' ব্যবহার করায় রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়মে উল্লেখ আছে, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সেই পদটি থেকে সংজ্ঞাটি স্পষ্টতর হতে হবে। সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার। করা যাবে না। সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থকে স্পষ্ট করা; কিন্তু কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করলে সংজ্ঞা স্পষ্ট না হয়ে আরও অস্পষ্ট হয়ে যায়। আর উদাহরণ-২ এ মানুষের সংজ্ঞায় 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সৃজনশীল প্রাণী' বলা হয়েছে। এই সংজ্ঞায় মানুষের জাত্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি বহির্ভূত গুণ 'সৃজনশীল' উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানুষের উপলক্ষণ। যার ফলে এই সংজ্ঞায় বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুসারে, যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হয় সে পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে, তার কম বা বেশি নয়। তাই কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদান করতে হলে ঐ পদের পূর্ণ জাত্যর্থ হিসেবে নিকটতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হবে। অতিরিক্ত গুণ হিসেবে উপলক্ষণ, অবান্তর লক্ষণ যুক্ত করা যাবে না। কিংবা আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ বাদ দেওয়া যাবে না। জাত্যর্থ থেকে অতিরিক্ত গুণ হিসেবে পদের উপলক্ষণ উল্লেখ করলে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে।