দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষ পদের সংজ্ঞায়- মানুষ কে 'মানবসন্তান' বলায় 'চক্রক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি ঘটেছে এবং দৃশ্যকল্প-২ এ 'মানুষ' কে 'চতুষ্পদ নয়' বলায় 'নঞর্থক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি ঘটেছে।নিচে যৌক্তিক সংজ্ঞার আলোকে দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো- ১.কোন পদের জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। সংজ্ঞাকে সঠিক হতে হলে কতকগুলো নিয়মের অধীনস্ত হতে হয়। আর এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে কতকগুলো অনুপপত্তি ঘটে। এই অনুপত্তিকেই চক্রক সংজ্ঞা বলে।২.চক্রক সংজ্ঞা যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। নিয়মটি হলো- 'যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সেই পদ বা তার প্রতিশব্দ সংজ্ঞায় ব্যবহার করা চলবে না।' অন্যদিকে নঞর্থক সংজ্ঞা যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। নিয়মটি হলো- 'সদর্থক সম্ভব হলে সংজ্ঞায় কখনই নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।'৩.কোনো পদের সংজ্ঞায় সেই পদ বা তার প্রতিশব্দ ব্যবহার করলে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। কিন্তু কোনো পদের সংজ্ঞায় নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করলে নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে।৪. চক্রক সংজ্ঞায় ভ্রান্তির বিষয় হচ্ছে প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ। আর নঞর্থক সংজ্ঞায় ভ্রান্তির বিষয় হচ্ছে নঞর্থক শব্দ।উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প- ২ এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।