উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এর পদগুলো সংজ্ঞায়নযোগ্য নয়। কেননা • উক্ত পদগুলোর আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা যায় না। কোনো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট বা সুনির্দিষ্টরূপে উপস্থাপন করার জন্য সংজ্ঞা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে সংজ্ঞাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সংজ্ঞায় পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা হয়। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে পদের সংজ্ঞা প্রদান করা যায় না। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এর পদগুলো হলো তৃষ্ণা, আত্মা, বাংলাদেশ।' তৃষ্ণা মানুষের মনের মৌলিক অবস্থা। এই মৌলিক বিষয়ের কখনো কোনো সংজ্ঞা প্রদান করা যায় না। কেননা এগুলো অসাধারণ। এদেরকে অন্যকোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। আবার মৌলিক গুণগুলো এমন যে, এদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা সম্ভব নয়। যেহেতু মৌলিক গুণের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা সম্ভব নয়, তাই মৌলিক গুণের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না বা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। আত্মা হচ্ছে সরল ও মৌলিক মানসিক প্রক্রিয়া। এগুলো হচ্ছে সরলতম গুণ। এদের যেমন বিশ্লেষণ করা যায় না, আবার অন্য কোনো গুণের. সাথে মিশানোও যায় না। তাই আত্মাকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। বাংলাদেশ পদ একটি স্বকীয় নামবাচক পদ। কোনো স্থান বা বস্তু বা প্রাণী বা ব্যক্তিবিশেষক চিহ্নিত করার জন্য যে সাংকেতিক শব্দ বা ভাষাগত প্রতীক ব্যবহার করা হয় তাকে স্বকীয় নামবাচক পদ বলে। আমরা জানি, কোনো পদের সংজ্ঞায় তার পূর্ণ জাতার্থকে উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু স্বকীয় নামবাচক পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা যায় না। কেননা এদের কেবল ব্যার্থ আছে, কোনো জাত্যর্থ নেই। যেহেতু নামবাচক পদের কোনো আসন্নতম জাতি-ও রিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা সম্ভব হয় না, সেহেতু নামবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। সুতরাং দৃষ্টান্ত-২ এর পদগুলো যেমন তৃষ্ণা, আত্মা, বাংলাদেশ এগুলোর আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ নেই, তাই এ পদগুলো সংজ্ঞায়নযোগ্য নয়।