উদ্দীপকের তথ্য-১ এর মাধ্যমে যৌক্তিক সংজ্ঞা ও তথ্য-২ এর মাধ্যমে বর্ণনা নির্দেশিত হয়েছে। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে সহজ, সরল, স্পষ্ট ও বোধগম্যভাবে প্রকাশ করলে তাকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। অন্যদিকে, কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ বা উভয়ই উল্লেখ করে কোনো পদকে ব্যক্ত করলে তাকে বর্ণনা বলে। সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে
২. হয় বিধায় এখানে একটি পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হয়। অন্যদিকে, বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হয় না। তাই বর্ণনার ক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখের প্রয়োজন হয় না।
৩. যৌক্তিক সংজ্ঞার সুনির্দিষ্ট কতকগুলো নিয়ম রয়েছে। কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদান করতে হলে নিয়মগুলো আবশ্যিকভাবে পালন করতে হয়। অন্যদিকে, বর্ণনার কোনো আবশ্যিক নিয়ম নেই। তাই বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম আবশ্যিকভাবে পালন করতে হয় না।
৪. সকল পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কেননা এমন অনেক পদ আছে যেগুলোর জাত্যর্থ উল্লেখ করা যায় না। তাই এসব পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, সকল পদের বর্ণনা দেওয়া যায়। কেননা বর্ণনায় জাত্যর্থের উল্লেখ থাকে না।
৫. সংজ্ঞার বিষয়টি সব সময় এক রকম থাকে। অর্থাৎ, স্থান-কাল- পাত্রভেদে সংজ্ঞা একই রকম হয়ে থাকে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে অর্থাৎ, স্থান কাল-পাত্রভেদে বর্ণনা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। তবে কিছু কিছু দিক থেকে এদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও রয়েছে।