উদ্দীপকে ছক-১ এ ক্রমিক শ্রেণিকরণ ( Classification By Series ) এবং ছক-২ দ্বারা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে উভয় শ্রেণিকরণের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো—
১. কোনো বস্তু বা বিষয়কে যখন গুণের মাত্রা অনুসারে বিন্যস্ত করা হয় তখন তাকে ক্রমিক শ্রেণিকরণ বলে। যেমন— উদ্দীপকের ছক-১ এ বর্ণিত মানুষ পদের জীবনের প্রকাশ সবচেয়ে বেশি, অন্যান্য জীবের জীবনের প্রকাশ কিছুটা কম, উদ্ভিদের জীবনের প্রকাশ সবচেয়ে কম । অর্থাৎ 'জীবনের প্রকাশ' নামক গুণের ভিত্তিতে মানুষ, অন্যান্য জীব ও উদ্ভিদকে বিন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে এরূপ মাত্রাগত বিন্যাস প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। কারণ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। যেমন— উদ্দীপক-২ এ প্রাণীকে মৌলিক নীতি অনুসারে বন্যপ্রাণী ও গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে বিভক্ত করা হয়েছে যা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ হিসেবে পরিগণিত।
২. ব্রিটিশ যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল ক্রমিক শ্রেণিকরণের বেলায় দুটি নিয়ম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। যথা— একই গুণসম্পন্ন জাতিগুলোকে একটি বড় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এ জাতিগুলোকে গুণের তারতম্য অনুযায়ী ক্রম অনুসারে সাজাতে হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ যুক্তিবিদ আলেকজান্ডার বেইন প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের তিনটি নিয়ম প্রচলন করেছেন। যথা- i. যেসব বিষয়ের মাঝে সর্বাধিক ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে তাদের একত্রিত করতে হবে, ii. সাদৃশ্যের ক্রমানুসারে সন্নিবেশিত করতে হবে এবং iii. উচ্চতম শ্রেণিতে না পৌঁছা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
৩. ক্রমিক শ্রেণিকরণ হলো রূপগত প্রক্রিয়া। এখানে জগতের সাথে সঙ্গতি রক্ষা না করে শুধু কয়েকটি নিয়মের ওপর নির্ভর করে একটি জাতিকে কয়েকটি উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বস্তুগত প্রক্রিয়া। এখানে বাস্তব জগতের বস্তুসমূহ পরীক্ষা- নিরীক্ষা করেই তাদেরকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ক্রমিক ও প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। কারণ উভয় প্রক্রিয়ায় আমরা প্রাকৃতিক বস্তু বা বিষয়কে মানসিকভাবে বিন্যস্ত করে থাকি ।