'ছক-১' এবং 'ছক-২' উভয়ের মধ্যে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা উভয় ছকে মূল জাতির ব্যক্তার্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ অনেক কম।
যৌক্তিক বিভাগ হলো একটি পদের ব্যক্ত্যর্থের বিশ্লেষণ। কোনো একটি শ্রেণিবাচক পদের যে ব্যার্থ রয়েছে যৌক্তিক বিভাগে সেই ব্যক্ত্যর্থকে বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে একটি মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যৌক্তিক বিভাগের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা কোনো পদের বিভাগ করার সময় আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগ করার সময় বিভাজ্য মূল জাতির ব্যস্ত্যর্থ এবং বিভরা উপজাতিগুলোর ব্যক্তার্থ পরস্পর সমান হবে। যৌক্তিক বিভাগের এই নিয়ম অমান্য করে কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগ করলে দুই প্রকার অনুপপত্তি ঘটে যার মধ্যে একটি হলো অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি। যখন কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগে বিভাজ্য মূল জাতির ব্যস্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ কম হয় তখন অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের 'ছক-১' এ দেখা যাচ্ছে যে, 'ত্রিভুজ' পদটিকে 'সমবাহু ত্রিভুজ' ও 'সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ' এ দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এখানের পদের ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্তর্থ অনেক কম। আবার 'ছক-২' এ দেখা যাচ্ছে যে, 'প্রাণী' পদটিকে 'মেরুদণ্ডী' 'অমেরুদণ্ডী' ও গৃহপালিত-এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এখানে পদের ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ অনেক কম। অর্থাৎ 'ছক-১' এবং 'ছক-২' উভয়ের মধ্যেই যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। একারণে 'ছক-১' এবং 'ছক-২' এ অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
অতএব, "ছক-১ ও ছক-২ একই নিয়মের লঙ্ঘন"- যৌক্তিক বিভাগের আলোকে উক্তিটি সঠিক।