তৃতীয় বন্ধুর বক্তব্যে যৌক্তিক বিভাগের নিয়মের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। যৌক্তিক বিভাগের দুটি নিয়ম বিশ্লেষণ করা হলো-কোনো একটি নীতি বা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর শ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। যৌক্তিক বিভাগে সবসময় একটি মাত্র নীতি বা নিয়ম অনুসরণ করে। এই মূলনীতির ভিত্তিতেই সমস্ত বিভাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ বিভাজন প্রক্রিয়াটি সবসময় সার্বিক থেকে বিশেষের দিকে গমন করে। উদ্দীপকে তৃতীয় বন্ধু কোনো পদকে ভাগ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম হলো যৌক্তিক বিভাগের মূলসূত্র একই সময় একটি মাত্র হবে। অর্থাৎ কোনো জাতিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করতে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিভক্ত করতে একই সময়ে একটি মাত্র মূলসূত্র গ্রহণ করতে হবে। যেমন- মানুষ জাতিকে সভ্যতা, শিক্ষা, সততা ইত্যাদি মূলসূত্র অনুসারে সভ্য মানুষ, সৎ মানুষ ও শিক্ষিত মানুষ ইত্যাদি উপজাতিতে ভাগ করা যায়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অর্থাৎ একই সাথে একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করে কোনো জাতি বা শ্রেণিকে বিভক্ত করলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। লৌকিক বিভাগের অন্য আর একটি নিয়ম হলো মৌলিক বিভাগে উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে হবে। যৌক্তিক বিভাগের অর্থ হলো একটি জাতিকে তার অন্তর্গত উপপদ্ধতিসমূহে ভাগ করা। শ্রেণিগুলোকে বিভক্ত করতে গিয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, শ্রেণিগুলো যেন একটি অপরটির সাথে মিশে না যায়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অর্থাৎ কোনো জাতিকে বিভক্ত করা হলে যদি উপজাতিগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয় তাহলে উক্ত বিভাগটি ভ্রান্ত হবে। এরূপ ভ্রান্ত বিভাগই হচ্ছে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ। যেমন- শিক্ষা ও সভ্যতা এই দুই নীতির ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করা হলে শিক্ষিত ও সৎ এই উপশ্রেণি দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না।