চিত্র-১ ও চিত্র-৩ যথাক্রমে সংকর বিভাগ ও যৌক্তিক বিভাগকে নির্দেশ করে। সংকর বিভাগ ও যৌক্তিক বিভাগের তুলনামূলক আলোচনা করলে উভয়ের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগে একটির পরিবর্তে একাধিক মূলনীতি গ্রহণ করা হলে 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' ঘটে। যেমন- উদ্দীপকের চিত্র-১ এ মানুষকে 'সৎ মানুষ', 'অসৎ মানুষ', 'লম্বা মানুষ', 'খাটো মানুষ' ও 'ফর্সা মানুষ' এ বিভক্ত করায় সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা এখানে বিভাগের তিনটি মূলনীতি 'সততা', 'উচ্চতা' ও 'বর্ণ' একসাথে গ্রহণ করে বিভাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, যৌক্তিক বিভাগে শ্রেণিবাচক পদের ব্যক্ত্যর্থের বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে একটি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ একটি মূলসূত্র বা নীতির ভিত্তিতে কোনো শ্রেণি বা জাতিকে তার অন্তর্ভুক্ত নিম্নতর শ্রেণি বা উপজাতিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। যেমন- উদ্দীপকের চিত্র-৩ এ 'মানুষ' একটি জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদ। এ পদকে 'সততা' নামক মূলনীতির ভিত্তিতে 'সৎ মানুষ' ও 'অসৎ মানুষ' এ দুটি উপজাতিতে বা উপশ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এরূপ বিভক্তকরণ প্রক্রিয়াই হলো যৌক্তিক বিভাগ।
সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সংকর বিভাগ ও যৌক্তিক বিভাগ উভয়ই যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। উভয়ই কোনো না কোনো নিয়ম অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সংকর বিভাগ হলো ভ্রান্ত বিভাগ। কিন্তু যৌক্তিক বিভাগ হলো সঠিক বিভাগ। সংকর বিভাগে একাধিক নীতি ব্যবহার করা হয়। যেমন- চিত্র-১ এ দেখা যায়, মানুষকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে সততা, উচ্চতা ও বর্ণ প্রভৃতি নীতি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যৌক্তিক বিভাগে একটি মাত্র নীতি ব্যবহার করা হয়। যেমন- চিত্র-৩ এ সততা নীতির ভিত্তিতে মানুষকে সৎ মানুষ ও অসৎ মানুষে বিভক্ত করা হয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের মাধ্যমে আমরা সংকর বিভাগ পরিহার করে যৌক্তিক বিভাগে উপনীত হতে পারি যা আমাদের চিন্তাকে পরিশীলিত করতে সহায়তা করবে।