দৃশ্যকল্প-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়া যৌক্তিক বিভাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে দৃশ্যকল্প-১ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটি ভুল হলেও দৃশ্যকল্প-২ এর প্রক্রিয়াটি সঠিক।আমরা জানি, একটি নীতি বা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কোনো শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপশ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। সাধারণত বিভক্ত উপশ্রেণি দুটির মধ্যে একটিতে ঐ শ্রেণির বিশেষ গুণটি বিদ্যমান থাকলেও অন্যটিতে থাকে না। যেমন- ছক-২ এ বর্ণিত মানুষ পদকে 'সভ্যতার' ভিত্তিতে সভ্য মানুষ ও অসভ্য মানুষে বিভক্ত করা হয়েছে। এ বিভক্তকরণে যৌক্তিক বিভাগের সকল নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে। তাই এটি একটি শুদ্ধ যৌক্তিক বিভাগ।যৌক্তিক বিভাগের ষষ্ঠ নিয়ম অনুসারে, ক্রমিক বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রতিটি জাতিকে তার নিকটতম উপজাতিতে ভাগ করতে হবে। এক্ষেত্রে মধ্যবর্তী কোনো স্তরকে বাদ দেওয়া যাবে না। কিন্তু দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষ পদকে বাদ দিয়ে 'জীব' জাতিকে 'শিক্ষিত মানুষ' ও 'অশিক্ষিত মানুষ' পদে বিভক্ত করা হয়েছে। এ কারণে দৃশ্যকল্প-১ এর দৃষ্টান্ত হলো ভ্রান্ত যৌক্তিক বিভাগ। এটি উল্লম্ফন বিভাগজনিত অনুপপত্তি হিসেবে পরিগণিত।পরিশেষে বলা যায়, যৌক্তিক বিভাগে একটিমাত্র মূলসূত্র অনুসরণ করে পদের বিভাগায়ন করা যায়। এ বিভাগায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো জাতি বা শ্রেণির মধ্যবর্তী স্তরকে বাদ দেওয়া যায় না। দৃশ্যকল্প-২ এ এই নিয়মটি অনুসরণ করা হলেও দৃশ্যকল্প-১ এ তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ কারণেই দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা লক্ষণীয়।