আমার মতে, তরমুজ ভাগ করার ক্ষেত্রে গনি মিয়া যৌক্তিক বিভাগের সঠিক বা যথার্থ নিয়ম পালন করেননি।
যৌক্তিক বিভাগের একটি নিয়ম হলো- যৌক্তিক বিভাগের মূলসূত্র একই সময়ে একটা হবে। অর্থাৎ কোনো জাতিকে তার অন্তর্গত উপজাতিতে বিভক্ত করতে হলে একই সময়ে যে কোনো একটি মূলসূত্র গ্রহণ করতে হবে। যেমন- 'মানুষ' নামক জাতিকে বিভক্ত করতে যেকোনো একটি মূলসূত্র যেমন- 'সততা' বা 'শিক্ষা' এর ওপর নির্ভর করে 'সৎ মানুষ' এবং 'অসৎ মানুষ' বা 'শিক্ষিত মানুষ' বা 'অশিক্ষিত মানুষ' এভাবে বিভক্ত করতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই একটার বেশি সূত্রের ওপর নির্ভর করে বিভক্ত করা যাবে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গনি মিয়া তরমুজকে ভাগ করতে গিয়ে একই সাথে বড়, গোলাকার ও (সবুজ) রঙের ভিত্তিতে ভাগ করেছেন। যৌক্তিক বিভাগের মূলসূত্র একই সময়ে একটি মাত্র হতে হবে, যা গনি মিয়ার বিভাগকরণের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তিনি একই সাথে কয়েকটা আকার (বড়), আকৃতি (গোলাকার) এবং রং (সবুজ)-এর ওপর নির্ভর করে তরমুজকে ভাগ করেছেন, যা যৌক্তিক নিয়মের বিরোধী। এভাবে কয়েকটি সূত্রের ওপর নির্ভর করে 'তরমুজ'কে ভাগ করলে যৌক্তিক বিভাগটি সংকর বিভাগ দোষে দুষ্ট হবে।
একটি জাতিবাচক পদকে তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করতে হলে যে কোনো একটি সূত্রকে মূলমূত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিষ্ণু উল্লিখিত উদ্দীপকে আমরা দেখি, গনি মিয়া 'তরমুজ'কে কয়েকটি সূত্রের ওপর নির্ভর করে ভাগ' করেছেন। অতএব, তরমুজ ভাগ করার ক্ষেত্রে গনি মিয়া যৌক্তিক বিভাগের সঠিক বা যথার্থ নিয়ম পালন করেননি।