উদ্দীপকের বিভাগ-১ এ অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা এখানে একটি ঘরকে তার বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করে দেখানো হয়েছে। আর বিভাগ-২ এ গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা এখানে একটি আমকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করা হয়েছে, যা যৌক্তিক বিভাগের নিয়মবিরোধী। নিচের অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগের স্বরূপ - বিশ্লেষণ করা হলো-
যৌক্তিক বিভাগের ১ম নিয়ম হলো- যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে সর্বদা একটি শ্রেণি বা জাতিকে বিভক্ত করতে হবে। কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে নয়। যৌক্তিক বিভাগের এ নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের পরিবর্তে কোনো বিশিষ্ট পদকে বিভক্ত করলে দুই ধরনের অনুপপত্তি ঘটে।
১. অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি যখন জাতি ও শ্রেণির পরিবর্তে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অঙ্গসমূহে ভাগ করা হয় সে ক্ষেত্রে অঙ্গগত বিভাগ নামক দোষ বা অনুপপত্তি ঘটবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো উদ্ভিদকে তার শাখা, কান্ড, মূল ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করা হলে অঙ্গগত বিভাগ দোষ বা অনুপপত্তি ঘটবে। উদ্দীপকের বিভাগ-১ এ একটি ঘরকে দরজা, জানালা ও বারান্দায় ভাগ করার ফলে এখানে অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
২. গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি কোনো বিশিষ্ট বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করাকে বলে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি। উদাহরণস্বরূপ, বাতাবি লেবুকে তার বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ, আকার ইত্যাদিতে কিংবা কাচকে ঘনত্ব, ভঙ্গুরতা, স্বচ্ছতা ইত্যাদিতে ভাগ করা হলে তাকে গুণগত বিভাগ বলে। যে বিষয়টি সবসময় মনে রাখতে হবে সেটি হচ্ছে, যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে শুধু বিভাজ্য পদ শ্রেণিবাচক হবে না। যদি এ নিয়ম লঙ্ঘন করা হয় তাহলে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটবে। উদ্দীপকে একটি আমকে রং, গন্ধ ও স্বাদ ইত্যাদি গুণে ভাগ করায় এখানে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বিভাগ-১ এর মাধ্যমে অঙ্গগত বিভাগ এবং বিভাগ-২ এর মাধ্যমে গুণগত বিভাগকে ইঙ্গিত করেছে। উভয় বিভাগ প্রক্রিয়ায় যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুসরণ না করায় অনুপপত্তি ঘটেছে। ফলে বিভাগ দুটি যথার্থ হয়নি।