উদ্দীপকে শিমুল ও রুমার বিভক্তকরণে অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ নির্দেশিত হয়েছে। আর এই দুই প্রকার বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।
যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী কেবল কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করা যায়, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুর নয়। যৌক্তিক বিভাগের এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের পরিবর্তে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করলে বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। 'যৌক্তিক বিভাগের এই ত্রুটিকে অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি বলে । যেমন— উদ্দীপকের শিমুল একটি গাছকে তার মূল, কাণ্ড, শাখা, পাতা, ফুল ইত্যাদিতে বিভক্ত করেছে। অর্থাৎ, এখানে একটি বিশেষ বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। তাই তার এ কর্মকাণ্ডে অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরপক্ষে, যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়মটি লঙ্ঘন করে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করলে বিভাগটি ত্রুটিপূর্ণ হয় । যৌক্তিক বিভাগের এই ত্রুটিকে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি বলে। যেমন— উদ্দীপকের রুমা কাচকে তার ঘনত্ব, ভঙ্গুরতা, স্বচ্ছতা ইত্যাদিতে বিভক্ত করে ।অর্থাৎ, সে কাচকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করেছে। যেহেতু রুমা যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো বস্তু হিসেবে কাচকে তার বিভিন্ন গুণে ভাগ করেছে, তাই তার এ কর্মকাণ্ডে গুণগত বিভাগ নির্দেশিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ উভয়ই দুটি ভিন্ন বিভাগ প্রক্রিয়া। এরূপ ভিন্নতার কারণে শিমুল ও রুমার বিভক্তকরণ প্রক্রিয়া পরস্পর থেকে আলাদা।